গাজীপুর মহানগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিকারে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অসচ্ছল পরিবারের মাঝে মশারি উপহার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গাজীপুর মহানগরীর ২৯ নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাত ৮ ঘটিকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর নায়েবে আমীর মো: খায়রুল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: খায়রুল হাসান বলেন, "ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সাধারণত বাসাবাড়ির ফুলের টব, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, বালতি কিংবা ছাদের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। তাই আমাদের নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্বজনদেরও সচেতন করতে হবে।"

সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের তীব্র অভাব রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। আমরা অবিলম্বে ডেঙ্গু প্রতিকারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোগীদের জন্য সরকারি চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
জামায়াতে ইসলামীর সমাজসেবামূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটির সীমিত সাধ্যের মধ্য দিয়েই তারা সবসময় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি ২৯ নং ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এফ এম জাহিদ আহমেদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ যেভাবে মশারি বিতরণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমরা বিশ্বাস করি তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে জনগণের কল্যাণে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেট্রো সদর থানা আমীর মো: ছাদেকুজ্জামান খান। তিনি বলেন, "দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে তৃণমূলের মানুষ তার সুফল পায় না। সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইঞ্জিনিয়ার জাহিদের মতো সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন।"
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপহার হিসেবে মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ২৯ নং ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।