গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় গ্যাসের রাইজার লিকেজ সার্ভে করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিতাস গ্যাসের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তার বনরূপা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের দাবি, আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের লিকেজ লাইন মেরামতের জন্য বিল বই দেখতে গেলে সার্ভে টিমের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর সদর উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার বিল্লাহ হোসেনের ছেলে শাহা পরান (২৬), আব্দুল হামিদের ছেলে রনি (৩৫), ইব্রাহিম আকনের ছেলে ইউসুফ আকন (২৪) এবং সালনা এলাকার মো. শাহীনের ছেলে মো. তারেক (২২)। আহত অন্য দুজন হলেন সানজিদ ও সিয়াম।
আহত সানজিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের এক গ্রাহকের বাসায় বিল বই দেখতে চাওয়া হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর মাহমুদ নামের ওই ব্যক্তি ৭০ থেকে ৮০ জন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা সুশান্ত হালদার সেখানে উপস্থিত হলে তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহমুদের নেতৃত্বে লোকজন সার্ভে টিমের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন সানজিদ।
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা রড, লাঠি, বাঁশ ও টেবিলের পায়া দিয়ে তাঁদের মারধর করে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলার সময় শর্টগান প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। এ ছাড়া গ্রাহকের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে—এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর। পরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল সার্ভিসেসের মালিক নাসির উদ্দিন আকন বলেন, “চার মাস ধরে এ কাজ চলছে। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চলার কথা রয়েছে। চারটি গ্রুপে মোট ১৬ জন কর্মী কাজ করছেন। ঘটনার সময় চারজন কাজ করছিলেন, পাশেই আরো চারজন ছিলেন। হামলায় কারো মাথা ফেটেছে, কারো হাত ভেঙেছে।”
তিনি আরো বলেন, “এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ। তাই তিতাস কর্তৃপক্ষই মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক সুরুজ আলম বলেন, গ্যাসের সিস্টেম লস কমানো এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান কার্যালয়ের পরামর্শ ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের লিকেজ লাইন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গাজীপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল সার্ভিসেস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গ্রাহকদের বাসায় গিয়ে বিল বই যাচাই করে লিকেজ শনাক্ত ও মেরামতের কাজ করছেন। এ জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। ইতিমধ্যে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার গ্রাহকের লাইন মেরামত করা হয়েছে।”
সুরুজ আলম আরো জানান, টঙ্গী, জয়দেবপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় মোট ১১ হাজার গ্রাহকের গ্যাস লাইন মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার চৌরাস্তা এলাকার এক গ্রাহকের বাসায় বিল বই যাচাই করতে গেলে কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এখনো থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাহমুদের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও সে কল ধরেনি।