গাজীপুরে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব)-এর উদ্যোগে বুধবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সংশ্লিষ্টদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪ এর নির্বাহী কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) সালমা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমা খাতুন বলেন, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তামাক ব্যবহার করে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও তামাক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হচ্ছেন। ধোঁয়াবিহীন তামাকসহ বিভিন্ন ধরনের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে ক্যানসার, হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি বলেন, সরাসরি ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে কর্মস্থল ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশু, নারী ও অধূমপায়ীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নাটাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন নাটাবের কেন্দ্রীয় প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহাম্মেদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ, ফিল্ড স্যানিটারি অফিসার মলয় কুমার দাস, গাজীপুর মহানগর প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন মোল্লা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. জিয়াউল হক, জিসিসির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব চঞ্চল চন্দ্র শীল, ওসমান হারুনী, আরিফ হোসাইন, পৌর সুপার মার্কেট কমিটির মো. খলিলুর রহমান, নাটাবের প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহিনুর রহমান এবং সাংবাদিক সাব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন মেনে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগমস্থলে ধূমপান বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।