পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাজীপুরে ব্যাপকভাবে উদযাপিত হচ্ছে 'বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬'। ঢাকা বন বিভাগ এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জেলা শহরের রাজবাড়ি মাঠে এই বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
"বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরে আয়োজিত 'বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬'-এর সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দর্শনার্থী ও বৃক্ষপ্রেমীদের বিপুল চাহিদা ও আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন মেলার মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
গাজীপুর জেলার প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, "সরকারি নির্দেশনার পর বিশেষ করে এই বর্ষা মৌসুমে গাজীপুরের আনাচে-কানাচে লাখ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা এবং গাছ পরিচর্যার সঠিক নিয়মাবলী শেখানো।" তিনি আরও জানান, মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ও ঔষধি গাছের চারা সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, 'গাজীপুর বনায়ন নার্সারি'সহ অসংখ্য নার্সারির স্টল সাজানো হয়েছে। স্টলগুলোতে আম, কাঁঠাল, সফেদা, বেল এবং তেজপাতার মতো পরিচিত চারা গাছের পাশাপাশি রামবুটান, মালবেরি ও প্যাশন ফ্রুটের মতো বিলুপ্তপ্রায় ও বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ চারা প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতের ক্যাকটাস ও পাতাবাহার গাছের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
মেলায় আসা একাধিক সাধারণ ক্রেতা ও বৃক্ষপ্রেমী জানান, এক ছাদের নিচে এত প্রজাতির চারা পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে মেলার পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করছেন, এই বৃক্ষমেলা সাধারণ মানুষের মাঝে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), সহকারী পরিচালক মো: আহাদ নুর মোল্লা বলেন, গাজীপুরের এই বৃক্ষমেলা থেকে সাধারণ মানুষ সুলভ ও ন্যায্য মূল্যে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা সংগ্রহ করতে পারছেন। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশকে সবুজ-শ্যামল করে তুলতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আয়োজকরা আশা করছেন, বর্ধিত সময়ের ফলে সর্বস্তরের মানুষ সহজেই তাদের পছন্দমতো বৃক্ষের চারা রোপণের জন্য সংগ্রহ করতে পারবেন।