ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে গত রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এই পরিস্থিতি বেশি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত ও ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিতে হবে। কারণ এসব সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিশুদের নিয়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫০০ অধিভুক্ত কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। এ কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যদেরও শিশু একাডেমির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের প্রথিতযশা এই শিক্ষাবিদ বলেন, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য শুধু খাবার, পোশাক ও নিরাপত্তাই যথেষ্ট নয়। তার প্রয়োজন ভালোবাসা, যত্ন, সঠিক শিক্ষা, সুস্থ বিনোদন এবং নিজের কথা বলার সুযোগ। শিশুর অধিকারকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও সমানভাবে জড়িত।
সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।