গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন গঠন: একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশাবাদ

সকল জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গাজীপুর প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ মেয়াদের ‘কার্যনির্বাহী কমিটি’ নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রেস ক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর আহ্বায়ক মো: এমরান খান ও অন্যান্য সদস্যদের যৌথ স্বাক্ষরে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও নোটিশ জারি করা হয়।
গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রেসক্লাবের সদস্য মাসুদ রানা-কে। কমিশনের অন্য দুই কমিশনার হলেন মো: বায়েজীদ হোসেন এবং মো: শফিকুল ইসলাম জীতু। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র ও দেশের প্রচলিত বিধি-বিধান মেনে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নতুন এই নির্বাচন কমিশন গঠনকে ক্লাবের নির্বাচনমুখী যাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সাধারণ সাংবাদিকরা। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সকল কমিশনারদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
একই সাথে ক্লাবের সর্বস্তরের সদস্যরা প্রত্যাশা করছেন, নতুন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসরণ করে তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন। সচেতন সদস্যরা মনে করছেন, নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের বিজয়ের বিষয় নয়; এটি সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। তাই অতীতের যেকোনো বিতর্ক, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য কিংবা পারস্পরিক অভিযোগ পেছনে ফেলে এখন সবার মনোযোগ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দিকে।
গঠনতন্ত্রের ১৯ ধারায় নির্বাচন আয়োজন, কমিশনের দায়িত্ব, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সেই আলোকে নির্বাচন কমিশন দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ করবে এবং প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিশেষ করে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যের বৈধ সদস্যপদ ও ভোটাধিকার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে পরবর্তীতে নির্বাচন নিয়ে কারো প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকে। বর্তমানে বিভাজন বা পুরনো বিতর্ক সামনে না এনে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সব কার্যক্রম চলছে কিনা তা দায়িত্বশীলভাবে পর্যবেক্ষণ করাই সাধারণ সদস্যদের প্রধান কর্তব্য।
সাধারণ সাংবাদিকদের মূল দাবি—বিভাজন নয়, গঠনতন্ত্রের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। গাজীপুর প্রেসক্লাব পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান, তাই এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বও নির্ধারিত হওয়া উচিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোট ও আস্থার মাধ্যমে।
নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে ক্লাবকে ‘নির্বাচনী ট্রেনে’ তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য গাজীপুর প্রেসক্লাবের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং পরামর্শক গুণীজনদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
সাধারণ সদস্যরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়েই গাজীপুর প্রেসক্লাব একটি গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে সফলভাবে এগিয়ে যাবে।







