গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, সংসার ভাঙার চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ও গাজীপুর জেলা যুবদলের সদস্য মো. আবু তাহের প্রধানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করে গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের মাধ্যমে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী মো. আলমগীর হোসেন।
গত ২০ অক্টোবর দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে আলমগীর হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন বহেরারচালা নতুন বাজার এলাকায় (ভিমটেক্স গার্মেন্টসের পাশে) অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবু তাহের প্রধানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কর্মসূত্রে তাঁকে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই সুযোগে বাড়ির মালিক আবু তাহের প্রধান তাঁর স্ত্রীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা, বিয়ের প্রলোভন ও নানা সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত যুবদল নেতা তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আলমগীর হোসেনকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে বর্তমান স্বামী সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি স্বামী আলমগীর হোসেনকে হত্যা করে পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলার মতো মারাত্মক পরিকল্পনার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন জানান, তাঁদের ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনে নয় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা এই সংসারে হঠাৎ এমন ভাঙন দেখা দেওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম মানসিক ও পারিবারিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে নিজের ও পরিবারের চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁকে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত যুবদল নেতা ও ওই গৃহবধূর কিছু কথোপকথনের অডিও রেকর্ড এবং বেশ কিছু টেক্সট ম্যাসেজ ভাইরাল হয়েছে। প্রকাশিত অডিওতে অভিযুক্ত আবু তাহের প্রধানকে ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলতে চাই। আমার ভুল হয়েছে, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন। এর জন্য আমার কী করতে হবে, বলেন। আপনি ক্ষমা না করলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
এ ছাড়া তাঁদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বিভিন্ন মেসেজে একে অপরের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া, বিকাশে টাকা লেনদেন এবং ‘তোমার পাশে থাকব সব সময়’, ‘তুমি কোনো টেনশন করবা না’ ও ‘বাসায় আসব’—এ ধরনের আপত্তিকর কথোপকথন রয়েছে বলে দাবিতে জানানো হয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত আবু তাহের প্রধানের বড় ভাই আবুল হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর তাঁকে জেলা বিএনপির সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবু তাহের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘এ নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথা নেই। আপনার কিছু জানার থাকলে শ্রীপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেন।’
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘কেন্দ্রীয় যুবদলের কাছে দাখিল করা অভিযোগের একটি কপি আমাদের হাতে এসেছে। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমন্বয় করতে পারিনি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









