বাংলাদেশ , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভবঃ রিজভী  গাজীপুরের কালিয়াকৈর বোয়ালীতে মাদকের থাবায় জিম্মি কয়েক গ্রাম: সন্ধ্যার পর বসে জমজমাট হাট ব্রিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত বারিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদ্যাপন ডুয়েটে রিসার্চ প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ডিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম: গাকৃবি উপাচার্য গাজীপুর জেলা জামায়াতের নতুন আমির শেফাউল হকের শপথ গ্রহণ গাজীপুর মহানগরের জামায়াতের নতুন আমীর নির্বাচিত হয়েছেন মো: খায়রুল হাসান চট্রগ্রাম সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় তিসা বাস, নিহত ২

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বোয়ালীতে মাদকের থাবায় জিম্মি কয়েক গ্রাম: সন্ধ্যার পর বসে জমজমাট হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর :

Oplus_131072

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এখন মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদকের রমরমা ব্যবসা চললেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। প্রতিবাদ করলেই মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে।

 

 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, বোয়ালী বাজার এলাকা এবং বান্ধর মার্কেটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এখন মাদক কেনাবেচার উন্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় বসে মাদকের জমজমাট হাট। মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের ছড়াছড়ি রয়েছে এখানে।

 

 

​টার্গেটে তরুণ ও যুবসমাজ:

মাদক কারবারিরা মূলত উঠতি বয়সী তরুণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিক, অটোড্রাইভার ও রিকশাচালকদের টার্গেট করে মাদক বিক্রি করছে। এর ফলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। স্কুলগামী ছাত্রীরাও বখাটে ও মাদকাসক্তদের উৎপাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে ভয় পাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ ও বিপাকে রয়েছেন।

 

 

​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনরোষ:

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের একাধিকবার হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে। জামিন পেয়ে আরও দ্বিগুণ শক্তি ও সাহস নিয়ে তারা পুরোনো ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

 

 

​এর আগে স্থানীয় জনতা রঘুনাথপুর বাজারে জসীমউদ্দীন নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে মোটরসাইকেল ও মাদকসহ আটক করে উত্তমমাধ্যম দেয় এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে সে আবারও একই ব্যবসায় নামে। জসীমের পাশাপাশি বর্তমানে জোরান পাল ও দুলাল পাল নামের আরও দুই ব্যক্তি এলাকার ‘টপ মাদক কারবারি’ হিসেবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সোর্সের মাধ্যমে মাদক এনে তারা এলাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ টু শব্দটি করার সাহস পায় না।

 

 

​স্থানীয়দের আক্ষেপ ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ:

মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে এলাকার তরুণেরা মিলে গড়ে তুলেছেন “সচেতন তরুণ ছাত্র জনতা” নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনের সদস্য সোহেল রানা জানান, এলাকায় ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি রয়েছে, যাদের মধ্যে নারীরাও জড়িয়ে পড়েছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাচ্ছি না।

 

 

​বোয়ালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহমিনা আক্তার বলেন, “তাদের দমন করতে অনেক চেষ্টা করেছি। ধরে পুলিশে দিলেও তারা ছাড়া পেয়ে যায়। তাদের ভয়ে পুরো ইউনিয়নবাসী আজ জিম্মি।”

 

 

​রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত হোসেন বলেন, “জোরান পাল ও দুলাল পাল এলাকার ত্রাশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারা আড্ডা বসায় এবং বাধা দিলেই হামলা চালায়। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

 

 

​পুলিশের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মাদকের ছড়াছড়ি ও কারবারিদের উৎপাতের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি এবং অনেককে ধরে জেলে পাঠাচ্ছি। এলাকাবাসীও পুলিশকে সহযোগিতা করছে। মাদক কারবারিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

Tag :

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ২০ মিনিট আগে
২ সময় দৃশ্য

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বোয়ালীতে মাদকের থাবায় জিম্মি কয়েক গ্রাম: সন্ধ্যার পর বসে জমজমাট হাট

আপডেটের সময় : ২০ মিনিট আগে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এখন মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদকের রমরমা ব্যবসা চললেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। প্রতিবাদ করলেই মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে।

 

 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, বোয়ালী বাজার এলাকা এবং বান্ধর মার্কেটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এখন মাদক কেনাবেচার উন্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় বসে মাদকের জমজমাট হাট। মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের ছড়াছড়ি রয়েছে এখানে।

 

 

​টার্গেটে তরুণ ও যুবসমাজ:

মাদক কারবারিরা মূলত উঠতি বয়সী তরুণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিক, অটোড্রাইভার ও রিকশাচালকদের টার্গেট করে মাদক বিক্রি করছে। এর ফলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। স্কুলগামী ছাত্রীরাও বখাটে ও মাদকাসক্তদের উৎপাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে ভয় পাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ ও বিপাকে রয়েছেন।

 

 

​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনরোষ:

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের একাধিকবার হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে। জামিন পেয়ে আরও দ্বিগুণ শক্তি ও সাহস নিয়ে তারা পুরোনো ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

 

 

​এর আগে স্থানীয় জনতা রঘুনাথপুর বাজারে জসীমউদ্দীন নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে মোটরসাইকেল ও মাদকসহ আটক করে উত্তমমাধ্যম দেয় এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে সে আবারও একই ব্যবসায় নামে। জসীমের পাশাপাশি বর্তমানে জোরান পাল ও দুলাল পাল নামের আরও দুই ব্যক্তি এলাকার ‘টপ মাদক কারবারি’ হিসেবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সোর্সের মাধ্যমে মাদক এনে তারা এলাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ টু শব্দটি করার সাহস পায় না।

 

 

​স্থানীয়দের আক্ষেপ ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ:

মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে এলাকার তরুণেরা মিলে গড়ে তুলেছেন “সচেতন তরুণ ছাত্র জনতা” নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনের সদস্য সোহেল রানা জানান, এলাকায় ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি রয়েছে, যাদের মধ্যে নারীরাও জড়িয়ে পড়েছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাচ্ছি না।

 

 

​বোয়ালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহমিনা আক্তার বলেন, “তাদের দমন করতে অনেক চেষ্টা করেছি। ধরে পুলিশে দিলেও তারা ছাড়া পেয়ে যায়। তাদের ভয়ে পুরো ইউনিয়নবাসী আজ জিম্মি।”

 

 

​রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত হোসেন বলেন, “জোরান পাল ও দুলাল পাল এলাকার ত্রাশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারা আড্ডা বসায় এবং বাধা দিলেই হামলা চালায়। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

 

 

​পুলিশের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মাদকের ছড়াছড়ি ও কারবারিদের উৎপাতের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি এবং অনেককে ধরে জেলে পাঠাচ্ছি। এলাকাবাসীও পুলিশকে সহযোগিতা করছে। মাদক কারবারিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”