চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে -পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, ইসলামের লেবেল লাগিয়ে যে দলটি মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে না, তার নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। এদেশের আদর্শিক যুবকদের অনুপ্রেরণার নাম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও। তাই মুমিনের গুণাবলি অর্জনে চেষ্টা ও সাধনা চালিয়ে যেতে হবে।
নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বুলবুল হত্যার বিচার আদায়সহ সকল হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম ও ধর্ষণ রুখে দিতে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রতি এদেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। তাই আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৌঁছে যেতে হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ৬ষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশন আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৯টা হতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন রমনা’য় সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী মানসুর আহমাদ সাকীর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কনভেনশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর চলমান কমিটির বিলুপ্ত করে ২০২৭-২৮ সেশনে
তিনি মুফতি মানসুর আহমদ সাকী’কে সভাপতি, আ হ ম আলাউদ্দীন ও অ্যাডভোকেট বায়েজিদ কে সহ-সভাপতি এবং রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জানবাজি রেখে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কর্মীরা কাজ করে গেছে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, স্রোতের বিপরীতে থেকে শরিয়ার পক্ষে আমরা কাজ করে গেছি। বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃত ইসলামপ্রেমী এবং ইসলামের মুখোশধারীদের চিনে ফেলেছে। তাই ইসলাম, দেশ ও মানবতাকে ধারণ করে আগামী বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণে যুব আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে ভাই ভাই হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, কেয়ামতের ময়দানে যে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া পাবে, তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো আদর্শবান যুবক। সকল নবী-রাসূল যুবক বয়সে ইবাদত করেছেন। যুবকদের ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। যুবকরা জাগলে জেগে ওঠে বৃহৎ বিশ্ব।
তিনি বলেন, রুহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াসে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। আত্মার পরিশুদ্ধি ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা এলে ইসলামের কোনো উপকার হবে না। তাই যুব আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে আদর্শবান, নীতিবান ও চরিত্রবান হতে হবে। আগামীর বাংলাদেশে ইসলামের ব্যানার নিয়ে রাজনীতি করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কোনো মুনাফিককে ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা বাধ্য হব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, যারা ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করে, মিথ্যা বলে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসলামকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামকে চায় না। মুনাফিকরা কাফেরদের চেয়েও ক্ষতিকর। মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শরিয়ার পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের পাড়া-মহল্লা ও প্রতিটি অঞ্চলে ইসলামের দুর্গ গড়ে তুলতে পারলে অচিরেই বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, একটি দেশের টিকে থাকা ও অগ্রগতি অনেকাংশে যুবশক্তির ওপর নির্ভর করে। যুবশক্তি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আবার যুবশক্তির কারণেই অনেক সময় রাষ্ট্র ধ্বংস হয়। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা যুবশক্তিকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য কার্যকর কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এ জায়গায় কাজ করছে। এটি শুধু কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়, বরং নৈতিকতায় সমৃদ্ধ আদর্শিক নাগরিক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে এক কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা যুবশক্তিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজিতে ব্যবহার করছে। যে প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার আসার পরও আমরা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন লক্ষ্য করছি না। অতীত থেকে বিএনপি কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বিরাজ করছে। মন্ত্রীরাও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের গতিবিধি শুভ মনে হচ্ছে না। সরকার যদি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়বে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যেই উত্তম আদর্শ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১০ বছর শাসন করেছেন। কিন্তু আমাদের দেশে ৯২ শতাংশ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখে না।
তিনি বলেন, ইসলামী রাজনীতিই সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনীতি, ইসলামের আদর্শই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ এবং ইসলামের বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার। এই দাওয়াত নিয়ে এদেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে। ইসলামের বিজয় ছাড়া মানবতার মুক্তি সম্ভব নয়।
বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ বলেন, ইসলামী বিপ্লব প্রতিষ্ঠায় ইসলামী যুব আন্দোলনের কর্মীদের জান-মাল, সময় ও অর্থ দিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। আদর্শবান যুবকরা জাগলেই জাগবে বাংলাদেশ।
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহযোগী সংগঠন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ওলামায়ে কেরামদের সংগঠনের সর্বস্তরে যুক্ত করতে পারলে অচিরেই মানজিলে মকসুদে পৌঁছানো সহজ হবে। যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেই রাষ্ট্রে আদর্শিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
কনভেনশনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট আব্দুল বাসেত, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর সেক্রেটারি মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ এর সেক্রেটারি এডভোকেট হানিফ মিয়া, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ এর সভাপতি আলহাজ্জ আবুল কাশেম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমাদ, কামাল উদ্দিন, মোহাইমিন পটোয়ারী প্রমুখ।








