গাজীপুরে তিন প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা

গাজীপুরে অনুমোদনহীনভাবে সার, কীটনাশক, মাছের ওষুধ ও মুরগির খাদ্য উৎপাদন এবং বোতলজাতকরণের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গাজীপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সালেহুর রহমান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
প্রথমে কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ এলাকার নছের মার্কেটের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে ‘মাসকো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অনুমোদনহীনভাবে সার উৎপাদন ও কীটনাশক বোতলজাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযানে দেখা যায়, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কোয়ালিটি কন্ট্রোলার ছাড়াই কীটনাশক বোতলজাত করা হচ্ছে। এছাড়া চক মাটি দিয়ে সার তৈরি করে প্রস্তুতকারক হিসেবে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএসটিআইয়ের ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা এবং সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এরপর কালিয়াকৈর উপজেলার সাকাশ্বর বরাব এলাকায় ‘বিনিময় ফিডস লিমিটেড’ কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে লাইসেন্স ছাড়া মুরগির খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রাণিসম্পদ লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স না থাকার পাশাপাশি প্যাকেজিং ও মানহীনভাবে মুরগির খাদ্য তৈরির অভিযোগও পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, কোনাবাড়ী থানাধীন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগ এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন ‘মেসার্স দেশ ট্রেডিং’ নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে অনুমোদনহীনভাবে চক মাটি দিয়ে মাছের ওষুধ ও গুটি সার তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ অপরাধে বিএসটিআইয়ের ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ২৪(২) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা এনএসআই, গাজীপুর কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনটি অভিযানে মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।







