বাংলাদেশ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী স্বাদে সেরা, দামে কম, লোকসানে মধুপুরের আনারস চাষি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (IIUM)-এর মধ্যে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কার্যক্রমকে জনপ্রিয় করতে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন প্রধান তথ্য কমিশনারের সাথে বাপাজস নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ গাজীপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বৃদ্ধ বয়সেও হুইলচেয়ারে রাজপথে হাসান সরকার, বিএনপি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা জিএমপির নতুন কমিশনার ডিআইজি আশিক সাঈদ গাজীপুরে যানজট ও শব্দদূষণমুক্ত শহর গড়তে মতবিনিময় সভা মহাসড়কে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ,  ১১ প্লাটুন বিজিবি ২৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

স্বাদে সেরা, দামে কম, লোকসানে মধুপুরের আনারস চাষি

নিজস্ব প্রতিবেদক,টাঙ্গাইল:

টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারসের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও। জিআই স্বীকৃত এই ফল রসে ভরা, সুগন্ধে অতুলনীয় আর স্বাদে সবার সেরা। অথচ সেই আনারসই এখন মধুপুরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে পানির দামে। উৎপাদন খরচ থেকে কম দামেও বিক্রি করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ চাষি।

 

বাজারে এখন এক কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়, কমলা ২৮০ টাকায়। আর মধুপুরের একটা আস্ত আনারস বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়। বড় আকারের ভালো আনারসের দামও ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি উঠছে না। পুষ্টিগুণ আর স্বাদের দিক থেকে আপেল-কমলার চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে না থেকেও দামের দিক থেকে এটাই এখন সবচেয়ে সস্তা ফল।

 

মধুপুরের চাষিরা জানান, একটি আনারস ফলাতে চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মিলিয়ে খরচ পড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি আনারসে চাষির লোকসান হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

 

 

মধুপুরের এক চাষি আক্ষেপ করে বলেন, “সারা বছর যত্ন করে ফল ফলাইলাম, এখন বাজারে নিলে দাম পাই না। আনারস ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে।”

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে আনারস পাঠানো যাচ্ছে না। এদিকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আনারস পেকে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। চাহিদা কম আর সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম তলানিতে নেমেছে।

 

 

এছাড়াও কিছু অসাধু ফল ব্যাবসায়ী অধিক লাভের আশায় আনারসে ফর্মালিন দেওয়ায় এর স্বাদ ও মান নষ্ট হওয়ায় এর চাহিদা কিছুটা কমছে।

 

 

অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই অবহেলিত আনারসই এখন স্পেন, পর্তুগাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশের বাজারে মধুপুরের আনারসের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু দেশের বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

 

 

সরকার বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল চাষের কথা বলছে। মধুপুরের আনারস প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এবং ফর্মালিনমুক্ত চাষে চাষীরা বদ্ধপরিকর। তবুও মাঠ পর্যায়ে এর প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

 

কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের দাবি, মধুপুরে দ্রুত আনারস সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করতে হবে। আনারসের জুস ফ্যাক্টরি করা হলে বাড়তি আনারস নষ্ট হবে না। একই সঙ্গে সরকারিভাবে ন্যায্য দাম নির্ধারণ করা হলে চাষিরা লাভবান হবেন।

 

 

মধুপুরের আনারস শুধু একটি ফল নয়, এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা। আপেল-কমলার ভিড়ে দেশের এই সেরা ফলটিকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নইলে একদিন হয়তো মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী এই ফল হারিয়ে যাবে।

Tag :

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ৭ ঘন্টা আগে
১১ সময় দৃশ্য

স্বাদে সেরা, দামে কম, লোকসানে মধুপুরের আনারস চাষি

আপডেটের সময় : ৭ ঘন্টা আগে

টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারসের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও। জিআই স্বীকৃত এই ফল রসে ভরা, সুগন্ধে অতুলনীয় আর স্বাদে সবার সেরা। অথচ সেই আনারসই এখন মধুপুরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে পানির দামে। উৎপাদন খরচ থেকে কম দামেও বিক্রি করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ চাষি।

 

বাজারে এখন এক কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়, কমলা ২৮০ টাকায়। আর মধুপুরের একটা আস্ত আনারস বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়। বড় আকারের ভালো আনারসের দামও ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি উঠছে না। পুষ্টিগুণ আর স্বাদের দিক থেকে আপেল-কমলার চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে না থেকেও দামের দিক থেকে এটাই এখন সবচেয়ে সস্তা ফল।

 

মধুপুরের চাষিরা জানান, একটি আনারস ফলাতে চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মিলিয়ে খরচ পড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি আনারসে চাষির লোকসান হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

 

 

মধুপুরের এক চাষি আক্ষেপ করে বলেন, “সারা বছর যত্ন করে ফল ফলাইলাম, এখন বাজারে নিলে দাম পাই না। আনারস ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে।”

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে আনারস পাঠানো যাচ্ছে না। এদিকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আনারস পেকে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। চাহিদা কম আর সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম তলানিতে নেমেছে।

 

 

এছাড়াও কিছু অসাধু ফল ব্যাবসায়ী অধিক লাভের আশায় আনারসে ফর্মালিন দেওয়ায় এর স্বাদ ও মান নষ্ট হওয়ায় এর চাহিদা কিছুটা কমছে।

 

 

অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই অবহেলিত আনারসই এখন স্পেন, পর্তুগাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশের বাজারে মধুপুরের আনারসের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু দেশের বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

 

 

সরকার বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল চাষের কথা বলছে। মধুপুরের আনারস প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এবং ফর্মালিনমুক্ত চাষে চাষীরা বদ্ধপরিকর। তবুও মাঠ পর্যায়ে এর প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

 

কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের দাবি, মধুপুরে দ্রুত আনারস সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করতে হবে। আনারসের জুস ফ্যাক্টরি করা হলে বাড়তি আনারস নষ্ট হবে না। একই সঙ্গে সরকারিভাবে ন্যায্য দাম নির্ধারণ করা হলে চাষিরা লাভবান হবেন।

 

 

মধুপুরের আনারস শুধু একটি ফল নয়, এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা। আপেল-কমলার ভিড়ে দেশের এই সেরা ফলটিকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নইলে একদিন হয়তো মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী এই ফল হারিয়ে যাবে।