বাংলাদেশ , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
শ্রীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে ১ লাখ টাকা জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তিকে দেশের বাস্তবতায় কাজে লাগানোর আহ্বান: শিক্ষামন্ত্রী শ্রীপুরে বিকাশের ম্যানেজারকে গুলি করে ৩ কোটি টাকা ছিনতাই গাজীপুরে দ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সকলের ডিম নিশ্চিত করার আহ্বান উপাচার্যের ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জুমার দিন প্রাণবন্ত হয় যেসব আমলে রমজানে বাজারে কোনো সংকট থাকবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী গাজীপুরের কালীগঞ্জে গোয়ালঘরে ঢুকে একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুর কালিয়াকৈরে এলপি গ্যাসে নতুন সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার চুরি যাওয়া ম্যাকবুক-ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক

প্রযুক্তিকে দেশের বাস্তবতায় কাজে লাগানোর আহ্বান: শিক্ষামন্ত্রী

গাজীপুর প্রতিনিধি :

দেশের বাস্তবতা ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রকৌশল জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে, যারা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ও সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য সাশ্রয়ী উপায়ে মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের কাজের মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। তাই শিক্ষাজীবন শেষে নিজেকে দেশ ও সমাজের কাজে উৎসর্গ করতে হবে।
আইইউটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা এমন এক সময়ে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি ও টুল ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের ভালোবাসার ও ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিনপ্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের ভালোবাসার ও ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন
সমাবর্তনকে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। অভিভাবকদের জন্য তাদের ত্যাগের সার্থকতা লাভের মুহূর্ত, আর শিক্ষকদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ—যখন তাদের শিক্ষার্থীরা জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।
বাংলাদেশে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অবস্থানকে গর্বের বিষয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও মূল্যবান। এই বিশ্ববিদ্যালয় সেই সম্পর্কের বাস্তব ও কার্যকর প্রতিফলন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখানে পড়তে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের শিক্ষা অর্জনের অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখানে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য ওআইসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ স্বাগত বক্তব্য দেন।
সমাবর্তনে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের জন্য সাত শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী পান ওআইসি গোল্ড মেডেল। অন্য ছয় শিক্ষার্থী পান আইইউটি গোল্ড মেডেল। শিক্ষামন্ত্রী তাদের পদক পরিয়ে দেন এবং সনদ তুলে দেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০ ঘন্টা আগে
২ সময় দৃশ্য

প্রযুক্তিকে দেশের বাস্তবতায় কাজে লাগানোর আহ্বান: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটের সময় : ১০ ঘন্টা আগে

দেশের বাস্তবতা ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রকৌশল জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে, যারা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ও সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য সাশ্রয়ী উপায়ে মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের কাজের মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। তাই শিক্ষাজীবন শেষে নিজেকে দেশ ও সমাজের কাজে উৎসর্গ করতে হবে।
আইইউটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা এমন এক সময়ে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি ও টুল ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের ভালোবাসার ও ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিনপ্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের ভালোবাসার ও ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন
সমাবর্তনকে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। অভিভাবকদের জন্য তাদের ত্যাগের সার্থকতা লাভের মুহূর্ত, আর শিক্ষকদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ—যখন তাদের শিক্ষার্থীরা জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।
বাংলাদেশে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অবস্থানকে গর্বের বিষয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও মূল্যবান। এই বিশ্ববিদ্যালয় সেই সম্পর্কের বাস্তব ও কার্যকর প্রতিফলন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখানে পড়তে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের শিক্ষা অর্জনের অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখানে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য ওআইসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ স্বাগত বক্তব্য দেন।
সমাবর্তনে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের জন্য সাত শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী পান ওআইসি গোল্ড মেডেল। অন্য ছয় শিক্ষার্থী পান আইইউটি গোল্ড মেডেল। শিক্ষামন্ত্রী তাদের পদক পরিয়ে দেন এবং সনদ তুলে দেন।